স্বপ্ন দেখছেন চামেলী

0
12

আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন চামেলী খাতুন। ফিরে পাচ্ছেন আত্মবিশ্বাস। জীবনের ২২ গজের লড়াই করা বাংলাদেশ মহিলা দলের সাবেক এই খেলোয়াড়ের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অনেকেই। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান ও আশ্বাসে উঠে দাঁড়ানোর প্রত্যয় তার কণ্ঠে।


অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না চামেলী। চোটের কারণে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাওয়া এই ক্রিকেটারের ঠিকানা হয়েছে রাজশাহীর নগরীর দরগাপাড়া এলাকায় নিজের বাড়ির বিছানা। অর্থ কষ্টে চিকিৎসার অভাবে দিনের পর দিন চোখে জল ঝরানো চামেলীর জীবনযন্ত্রণা নিয়ে ঠিক একদিন আগে ‘জীবনের ২২ গজে লড়ছেন ক্রিকেটার চামেলী’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয় বাংলা ট্রিবউন-এ। আরও বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ছাপা হওয়া খবরের পর থেকে সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে তার কোচ, জাতীয় মহিলা দলের খেলোয়াড়সহ দেশ-বিদেশের অনেকেই আর্থিক সহায়তার আশ্বাস ও সহানুভূতি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহীর এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘সাকিব (আল হাসান) ভাই ফোন করে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। পরে আবারও যোগাযোগ করবেন বলেছেন। আমার খবর শুনে অনেকেই অর্থ সহায়তা দিয়েছেন, যার মধ্যে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান, ফাহিম স্যার ও আমার সতীর্থ মহিলা দলের সদস্যরা। এছাড়া স্থানীয় অনেকে বাড়িতে এসে কিংবা মুঠোফোনে সহানুভূতি জানিয়েছেন। আমার কর্মস্থল আনসার ভিডিপি থেকেও সহযোগিতা পাচ্ছি।’

১৯৮৮ সালের ১১ নভেম্বর অস্বচ্ছল পরিবারে জন্ম নেওয়া চামেলী দিনকয়েক পরেই পা দেবেন ৩০ বছরে। সম্ভাবনাময়ী এই ক্রিকেটারের মাঠে ব্যাট-বলের সঙ্গে লড়াই করার কথা থাকলেও আট বছর আগে খেলতে গিয়ে ডান পায়ের লিগামেন্ট যায় ছিঁড়ে। সেই সঙ্গে মেরুদন্ডে দুই হাড়ের ফাঁকে থাকা নরম ডিস্কগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অবশ হয়ে যাচ্ছে শরীরের ডান দিক। এই অবস্থায় দেশের বাইরে গিয়ে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন তার চিকিৎসকরা, যাতে প্রয়োজন অন্তত ১০ লাখ টাকা। যেখানে নিজের সংসারের টানাপোড়েন, সেখানে চিকিৎসা ব্যয়ে এত টাকা খরচ করা তার জন্য দুঃস্বপ্নের মতো।

চামেলী জানিয়েছেন, ২০১১ সালে আবাহনী মাঠে অনুশীলনের সময় তার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। এরপর স্বেচ্ছায় জাতীয় দল থেকে অবসর নেন। পরে দেখা দেয় মেরুদণ্ডের হাড়ের ব্যথা। এই অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘ আট বছর ধরে মাঠের বাইরে চামেলী।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী শাখার সভাপতি কল্পনা রায় বলেছেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে তাকে (চামেলী) আমরা দেখতে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ আর্থিক সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় মেয়েটি যেন আবার তার স্বপ্নের আঙিনায় স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসে, এটাই প্রত্যাশা করি।’

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here